অনেকেই জানতে চান – “আমার বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড আমেরিকায় থাকে। ও কি আমাকে আমেরিকা নিয়ে যেতে পারবে?”
এই প্রশ্নের উত্তর একটু জটিল হলেও, পরিষ্কারভাবে বুঝলে সহজ।
আমেরিকায় কাউকে স্পনসর করে নিয়ে যাওয়ার জন্য “কানুন” আর “কমিটমেন্ট” – দুটোই জরুরি।
প্রেমিক/প্রেমিকা কি সরাসরি আপনাকে আমেরিকা নিয়ে যেতে পারে?
না।
শুধু প্রেমের সম্পর্ক থাকলে, সরাসরি আমেরিকার ভিসা পাওয়া যায় না। আমেরিকান ইমিগ্রেশন সিস্টেমে প্রেমিক/প্রেমিকার (Boyfriend/Girlfriend) জন্য আলাদা কোনো স্পনসরশিপ ভিসা নেই।
তবে, কয়েকটা বিকল্প উপায় রয়েছে — যার মাধ্যমে সে আপনাকে আমেরিকা নিয়ে যেতে পারে।
১. K-1 Fiancé(e) Visa – বিয়ের আগে এনগেজড হলে!
যদি আপনার প্রেমিক/প্রেমিকা U.S. citizen হয় এবং সে আপনাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সে আপনাকে K-1 fiancé(e) visa দিয়ে আমেরিকা নিতে পারে।
শর্তগুলো:
- স্পনসর (যে আপনাকে নিচ্ছে) U.S. citizen হতে হবে। (Green Card holder হলে এই ভিসা কাজ করে না)
- আপনাদের মধ্যে বিয়ের প্ল্যান থাকতে হবে এবং আমেরিকা যাওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে বিয়ে করতে হবে।
- আপনাদের সামনাসামনি দেখা হওয়া দরকার (গত ২ বছরে কমপক্ষে একবার)।
- সম্পর্ক প্রমাণ করার মতো ডকুমেন্টস ও প্রমাণ থাকতে হবে (ফটো, মেসেজ, কল হিস্ট্রি, গিফট, ভ্রমণ, ভিডিও কল ইত্যাদি)।
ভিসা প্রসেসিং টাইম: প্রায় ১০-১৪ মাস (USCIS + NVC + Embassy স্টেপ মিলিয়ে)।
ফি: প্রায় ৫৩৫ ডলার USCIS ফি + মেডিকেল + ইন্টারভিউ খরচ
এটি সবচেয়ে সরাসরি এবং জনপ্রিয় অপশন যদি সত্যি বিয়ের ইচ্ছা থাকে।
২. আপনি দুজন বিয়ে করে ফেলেছেন? তাহলে Spouse Visa (CR-1/IR-1)
যদি আপনারা বিয়ে করে থাকেন, তাহলে U.S. citizen বা Green Card holder স্বামী/স্ত্রী আপনাকে Spouse Visa দিয়ে আমেরিকা নিতে পারবেন।
শর্ত:
- বৈধভাবে বিয়ে হতে হবে।
- সম্পর্ক সত্যিকারের (genuine) হতে হবে — শুধু ভিসার জন্য নয়।
- Sponsor-এর পর্যাপ্ত ইনকাম বা Affidavit of Support লাগবে।
ভিসা টাইপ:
- IR-1: বিয়ের ২ বছরের বেশি সময় হয়ে গেলে।
- CR-1: বিয়ের ২ বছরের কম সময় হলে।
এটি খুবই স্ট্রং এবং পার্মানেন্ট ভিসা অপশন।
৩. ছাত্র/ওয়ার্ক ভিসার মাধ্যমে যুক্ত হওয়া
আপনার প্রেমিক/প্রেমিকা যদি আমেরিকায় স্টুডেন্ট ভিসায় (F-1) থাকে, তাহলে সে সরাসরি আপনাকে স্পনসর করতে পারবে না।
তবে, বিয়ের পর F-2 Dependent Visa অ্যাপ্লাই করা যায়।
একইভাবে, যদি সে H-1B ওয়ার্ক ভিসায় থাকে, তাহলে বিয়ের পর H-4 Dependent Visa পাওয়া সম্ভব।
এর জন্য অবশ্যই আইনি বিয়ে করা লাগবে।
সংক্ষেপে উপসংহার:
| সম্পর্কের অবস্থা | কি ধরণের ভিসা লাগবে | কি করতে হবে |
|---|---|---|
| প্রেমিক/প্রেমিকা | সরাসরি কোনো ভিসা নেই | এনগেজমেন্ট করে K-1 fiancé(e) ভিসার জন্য আবেদন করুন |
| বিয়ে করেছেন | Spouse Visa (IR-1/CR-1) | USCIS এ আবেদন করুন |
| প্রেমিক/প্রেমিকা স্টুডেন্ট/ওয়ার্কার | F-2 / H-4 Dependent Visa | বিয়ে করে ফলো-আপ ভিসা অ্যাপ্লাই করুন |
অতিরিক্ত টিপস:
- প্রতারণামূলক সম্পর্ক করলে ভিসা বাতিল হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধও হতে পারেন।
- যেকোনো ফর্ম পূরণ করার সময় ভুল করলে দেরি হতে পারে, তাই অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন ল’ইয়ারের পরামর্শ নিন।
- আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে, তাই ধৈর্য ধরুন।
আপনি কী করতে পারেন এখন?
- যদি সম্পর্ক সিরিয়াস হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্ল্যান নিয়ে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিন।
- বিয়ের কথা ভাবছেন? তাহলে কিভাবে K-1 বা Spouse Visa কাজ করে তা ভালোভাবে শিখে নিন।
- ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় যেন কোনো ভুল না হয় – সেজন্য অভিজ্ঞ কারো সহযোগিতা নিন।
শেষ কথা:
প্রেমের সম্পর্ক অনেক সুন্দর, কিন্তু যখন সেটা ইমিগ্রেশনের প্রশ্নে দাঁড়ায়, তখন নিয়ম-কানুন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সম্পর্ক যদি সত্যি হয় এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে আইনের পথে চলেই আপনি বা আপনার প্রেমিক/প্রেমিকা আমেরিকায় একসাথে থাকতে পারবেন।
সূত্র (Trusted Sources):
- U.S. Citizenship and Immigration Services (USCIS): https://www.uscis.gov
- U.S. Department of State: https://travel.state.gov/content/travel/en/us-visas.html







