আপনার বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড কিভাবে আপনাকে আমেরিকা নিতে পারবেন বাংলাদেশ থেকে? বিস্তারিত জেনে নিন!

অনেকেই জানতে চান – “আমার বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড আমেরিকায় থাকে। ও কি আমাকে আমেরিকা নিয়ে যেতে পারবে?”
এই প্রশ্নের উত্তর একটু জটিল হলেও, পরিষ্কারভাবে বুঝলে সহজ।

আমেরিকায় কাউকে স্পনসর করে নিয়ে যাওয়ার জন্য “কানুন” আর “কমিটমেন্ট” – দুটোই জরুরি।

 প্রেমিক/প্রেমিকা কি সরাসরি আপনাকে আমেরিকা নিয়ে যেতে পারে?

না।
শুধু প্রেমের সম্পর্ক থাকলে, সরাসরি আমেরিকার ভিসা পাওয়া যায় না। আমেরিকান ইমিগ্রেশন সিস্টেমে প্রেমিক/প্রেমিকার (Boyfriend/Girlfriend) জন্য আলাদা কোনো স্পনসরশিপ ভিসা নেই।

তবে, কয়েকটা বিকল্প উপায় রয়েছে — যার মাধ্যমে সে আপনাকে আমেরিকা নিয়ে যেতে পারে।


১.  K-1 Fiancé(e) Visa – বিয়ের আগে এনগেজড হলে!

যদি আপনার প্রেমিক/প্রেমিকা U.S. citizen হয় এবং সে আপনাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সে আপনাকে K-1 fiancé(e) visa দিয়ে আমেরিকা নিতে পারে।

শর্তগুলো:

  • স্পনসর (যে আপনাকে নিচ্ছে) U.S. citizen হতে হবে। (Green Card holder হলে এই ভিসা কাজ করে না)
  • আপনাদের মধ্যে বিয়ের প্ল্যান থাকতে হবে এবং আমেরিকা যাওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে বিয়ে করতে হবে।
  • আপনাদের সামনাসামনি দেখা হওয়া দরকার (গত ২ বছরে কমপক্ষে একবার)।
  • সম্পর্ক প্রমাণ করার মতো ডকুমেন্টস ও প্রমাণ থাকতে হবে (ফটো, মেসেজ, কল হিস্ট্রি, গিফট, ভ্রমণ, ভিডিও কল ইত্যাদি)।

ভিসা প্রসেসিং টাইম: প্রায় ১০-১৪ মাস (USCIS + NVC + Embassy স্টেপ মিলিয়ে)।
ফি: প্রায় ৫৩৫ ডলার USCIS ফি + মেডিকেল + ইন্টারভিউ খরচ

 এটি সবচেয়ে সরাসরি এবং জনপ্রিয় অপশন যদি সত্যি বিয়ের ইচ্ছা থাকে।


২.  আপনি দুজন বিয়ে করে ফেলেছেন? তাহলে Spouse Visa (CR-1/IR-1)

যদি আপনারা বিয়ে করে থাকেন, তাহলে U.S. citizen বা Green Card holder স্বামী/স্ত্রী আপনাকে Spouse Visa দিয়ে আমেরিকা নিতে পারবেন।

শর্ত:

  • বৈধভাবে বিয়ে হতে হবে।
  • সম্পর্ক সত্যিকারের (genuine) হতে হবে — শুধু ভিসার জন্য নয়।
  • Sponsor-এর পর্যাপ্ত ইনকাম বা Affidavit of Support লাগবে।

ভিসা টাইপ:

  • IR-1: বিয়ের ২ বছরের বেশি সময় হয়ে গেলে।
  • CR-1: বিয়ের ২ বছরের কম সময় হলে।

 এটি খুবই স্ট্রং এবং পার্মানেন্ট ভিসা অপশন।


৩.  ছাত্র/ওয়ার্ক ভিসার মাধ্যমে যুক্ত হওয়া

আপনার প্রেমিক/প্রেমিকা যদি আমেরিকায় স্টুডেন্ট ভিসায় (F-1) থাকে, তাহলে সে সরাসরি আপনাকে স্পনসর করতে পারবে না।
তবে, বিয়ের পর F-2 Dependent Visa অ্যাপ্লাই করা যায়।
একইভাবে, যদি সে H-1B ওয়ার্ক ভিসায় থাকে, তাহলে বিয়ের পর H-4 Dependent Visa পাওয়া সম্ভব।

 এর জন্য অবশ্যই আইনি বিয়ে করা লাগবে।


 সংক্ষেপে উপসংহার:

সম্পর্কের অবস্থাকি ধরণের ভিসা লাগবেকি করতে হবে
প্রেমিক/প্রেমিকাসরাসরি কোনো ভিসা নেইএনগেজমেন্ট করে K-1 fiancé(e) ভিসার জন্য আবেদন করুন
বিয়ে করেছেনSpouse Visa (IR-1/CR-1)USCIS এ আবেদন করুন
প্রেমিক/প্রেমিকা স্টুডেন্ট/ওয়ার্কারF-2 / H-4 Dependent Visaবিয়ে করে ফলো-আপ ভিসা অ্যাপ্লাই করুন

 অতিরিক্ত টিপস:

  • প্রতারণামূলক সম্পর্ক করলে ভিসা বাতিল হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধও হতে পারেন।
  • যেকোনো ফর্ম পূরণ করার সময় ভুল করলে দেরি হতে পারে, তাই অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন ল’ইয়ারের পরামর্শ নিন।
  • আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে, তাই ধৈর্য ধরুন।

 আপনি কী করতে পারেন এখন?

  1. যদি সম্পর্ক সিরিয়াস হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্ল্যান নিয়ে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিন।
  2. বিয়ের কথা ভাবছেন? তাহলে কিভাবে K-1 বা Spouse Visa কাজ করে তা ভালোভাবে শিখে নিন।
  3. ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় যেন কোনো ভুল না হয় – সেজন্য অভিজ্ঞ কারো সহযোগিতা নিন।

শেষ কথা:
প্রেমের সম্পর্ক অনেক সুন্দর, কিন্তু যখন সেটা ইমিগ্রেশনের প্রশ্নে দাঁড়ায়, তখন নিয়ম-কানুন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সম্পর্ক যদি সত্যি হয় এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে আইনের পথে চলেই আপনি বা আপনার প্রেমিক/প্রেমিকা আমেরিকায় একসাথে থাকতে পারবেন।


সূত্র (Trusted Sources):

Leave a Comment